শরীরের ভেতর একটি টাইম বোম্ব টিকটিক করছে, অথচ আপনি জানতেই পারছেন না—শুনে কি গা ছমছম করে উঠছে? চিকিৎসাবিজ্ঞানে অ্যাওর্টিক অ্যানিউরিজম (Aortic Aneurysm) ঠিক তেমনই একটি সমস্যা। এটি এমন এক নীরব ঘাতক, যা অধিকাংশ সময় কোনো জানান না দিয়েই শরীরে দানা বাঁধে এবং অবহেলায় ডেকে আনতে পারে মৃত্যু।
আজকের ব্লগে আমরা জানবো এই রোগটি আসলে কী, কেন এটি এত ভয়ংকর এবং কীভাবে আধুনিক চিকিৎসায় এর থেকে মুক্তি পাওয়া সম্ভব।
সতর্কতা: অ্যাওর্টিক অ্যানিউরিজম বেশিরভাগ সময় কোনো লক্ষণ ছাড়াই শরীরে তৈরি হয়। তাই ঝুঁকিতে থাকলে সময়মতো স্ক্রিনিং অত্যন্ত জরুরি।
আমাদের হৃদপিণ্ড থেকে সারা শরীরে রক্ত বহনকারী প্রধান ও বৃহত্তম ধমনীটির নাম হলো অ্যাওর্টা (Aorta)। যদি কোনো কারণে এই ধমনীর দেয়াল দুর্বল হয়ে পড়ে এবং ধমনীটি কোনো নির্দিষ্ট স্থানে স্থায়ীভাবে বেলুনের মতো ফুলে ওঠে, তবে তাকে চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় অ্যানিউরিজম বলা হয়।
ধমনীর ব্যাস যদি স্বাভাবিকের তুলনায় ৫০%-এর বেশি বেড়ে যায়, তবে এটি অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে দাঁড়ায়।
এটি সাধারণত শরীরের তিনটি প্রধান স্থানে দেখা দেয়:
কারও রক্তনালী কেন ফুলে উঠবে? এর পেছনে কিছু নির্দিষ্ট কারণ ও ঝুঁকি কাজ করে:
অ্যাওর্টিক অ্যানিউরিজমকে 'নীরব ঘাতক' বলা হয় কারণ বেশিরভাগ ক্ষেত্রে এর কোনো লক্ষণ থাকে না। অন্য কোনো সমস্যার জন্য আল্ট্রাসাউন্ড বা এক্স-রে করতে গিয়ে হঠাৎ এটি ধরা পড়ে। তবে কিছু কিছু ক্ষেত্রে নিচের বিষয়গুলো খেয়াল করা যায়:
সবচেয়ে ভয়ংকর অবস্থা: যদি হঠাৎ তীব্র ব্যথা শুরু হয়, তার মানে হতে পারে রক্তনালীটি ফেটে গেছে (Rupture)—যা একটি চরম জরুরি অবস্থা।
সব অ্যানিউরিজমে অপারেশনের প্রয়োজন হয় না। চিকিৎসা নির্ভর করে রক্তনালীটি কতটুকু ফুলেছে তার ওপর:
জানলে অবাক হবেন, যদি কোনো রোগীর রক্তনালী হঠাৎ ফেটে যায়, তবে বাঁচার সম্ভাবনা মাত্র ১০% অর্থাৎ মৃত্যুঝুঁকি ৯০%। কিন্তু যদি সময়মতো রোগটি শনাক্ত করা যায় এবং পরিকল্পনামাফিক অপারেশন করা হয়, তবে এই মৃত্যুঝুঁকি ৫%-এর নিচে নামিয়ে আনা সম্ভব!
আমাদের পরামর্শ: আপনার বয়স যদি ৬০-এর বেশি হয় এবং আপনি ধূমপায়ী হন, তবে অন্তত একবার বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শে স্ক্রিনিং বা আল্ট্রাসাউন্ড করিয়ে নিশ্চিত হোন যে আপনার ভেতরে কোনো 'নীরব ঘাতক' লুকিয়ে নেই তো?
অ্যাওর্টিক অ্যানিউরিজম সন্দেহ হলে বা ঝুঁকির কারণ থাকলে দেরি না করে একজন ভাস্কুলার, এন্ডোভাসকুলার ও ল্যাপারোস্কোপিক সার্জনের পরামর্শ নিন। সময়মতো শনাক্তকরণ ও চিকিৎসাই জীবন বাঁচানোর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ উপায়।
ডাঃ মোঃ আরীফ উদ্দিন খাঁন
ভাসকুলার, এন্ডোভাসকুলার ও ল্যাপারোস্কোপিক সার্জন
এমবিবিএস, বিসিএস (স্বাস্থ্য)
এফসিপিএস (সার্জারি), এম এস (ভাসকুলার সার্জারি)
সহকারী রেজিস্ট্রার, জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউট ও হাসপাতাল
নীরব ঘাতক ডিভিটি (DVT): পায়ে রক্ত জমাট বাঁধার ঝুঁকি এবং জীবন বাঁচানোর উপায়
পা কাটার প্রধান কারণ: ক্রনিক লিম্ব ইস্কেমিয়া (CLI) - লক্ষণ, ঝুঁকি ও জীবন বাঁচানোর উপায়
শরীরের ভেতর লুকিয়ে থাকা এক নীরব ঘাতক: অ্যাওর্টিক অ্যানিউরিজম ও আপনার করণীয়
ভেরিকোস ভেইন হলো পায়ের শিরা ফুলে যাওয়া, আঁকাবাঁকা হওয়া ও দৃশ্যমান হয়ে ওঠার একটি সাধারণ রক্তনালীর রোগ। সময়মতো চিকিৎসা না নিলে ব্যথা, ফোলা, ত্বকের পরিবর্তন ও জটিলতা দেখা দিতে পারে।
ডিভিটি (DVT) হলো শরীরের গভীর শিরায় রক্ত জমাট বাঁধার একটি গুরুতর সমস্যা, যা সময়মতো চিকিৎসা না হলে প্রাণঘাতী Pulmonary Embolism-এর কারণ হতে পারে। পা ফোলা, ব্যথা, গরম বা লাল হয়ে যাওয়া— এসব লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত ভাস্কুলার বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন।
ক্রনিক লিম্ব ইস্কেমিয়া (CLI) হলো হাত বা পায়ের রক্তনালী ধীরে ধীরে বন্ধ হয়ে যাওয়ার গুরুতর সমস্যা, যা সময়মতো চিকিৎসা না করলে পায়ে ঘা, গ্যাংরিন এমনকি অঙ্গহানির কারণ হতে পারে। হাঁটলে পায়ে ব্যথা, পা ঠান্ডা হয়ে যাওয়া বা ঘা না শুকালে দ্রুত ভাস্কুলার সার্জনের পরামর্শ নিন।
অ্যাওর্টিক অ্যানিউরিজম হলো শরীরের প্রধান রক্তনালী অ্যাওর্টা বেলুনের মতো ফুলে যাওয়ার একটি নীরব কিন্তু প্রাণঘাতী সমস্যা। সময়মতো শনাক্ত না হলে রক্তনালী ফেটে গিয়ে মৃত্যু ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। বয়স ৬০-এর বেশি, ধূমপান, উচ্চ রক্তচাপ বা পারিবারিক ইতিহাস থাকলে দ্রুত ভাস্কুলার বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন।
Copyright @ Designed & Developed By SaraSoftware