ভেরিকোস ভেইন হল রক্তনালীর একটি সাধারণ রোগ। ত্বকের নিচে থাকা কোন শিরাগুলি (ব্যাস প্রায় ৩ মিলিমিটার বা তার বেশি) অস্বাভাবিকভাবে বড়, আঁকাবাঁকা ও ফোলাভাবযুক্ত হয়ে গেলে তাকে ভেরিকোস ভেইন বলা হয়। সাধারণত পায়ের শিরাগুলোতেই বেশি দেখা যায়, তবে শরীরের অন্য অংশেও হতে পারে।
প্রথম দিকে শুধু সৌন্দর্য নষ্ট হওয়াই প্রধান সমস্যা মনে হলেও, চিকিৎসা না নিলে পরবর্তীতে নানা জটিলতা দেখা দিতে পারে – যেমন পায়ে ব্যথা, ভারী ভাব, চুলকানি, ত্বকে কালচে দাগ, এমনকি দীর্ঘস্থায়ী ক্ষত বা আলসারও হতে পারে। একটি সমীক্ষায় দেখা গেছে, বিশ্বব্যাপী প্রায় ১০–১৫% মানুষের কোনো না কোনোভাবে ভেরিকোস ভেইন থাকে।
মাঝারি ও বড় শিরার ভিতরে ছোট ছোট ভাল্ব থাকে, যেগুলো রক্তকে একমুখী ভাবে ওপরের দিকে (হৃদয়ের দিকে) যেতে সাহায্য করে। কোন কারণে এই ভাল্বগুলো দুর্বল বা নষ্ট হয়ে গেলে রক্ত উল্টো দিকে নেমে আসে, শিরার ভিতরে চাপ বেড়ে যায় এবং ধীরে ধীরে শিরা প্রসারিত ও আঁকাবাঁকা হয়ে ওঠে – এটিই ক্রনিক ভেনাস ডিজিজ ও ভেরিকোস ভেইনের মূল কারণ।
ঝুঁকি বাড়ায় এমন কিছু কারণ হল:
ভেরিকোস ভেইন সন্দেহ হলে একজন অভিজ্ঞ ভাসকুলার সার্জনের সাথে পরামর্শ করা জরুরি। প্রথমে শারীরিক পরীক্ষা করা হয় – দাঁড়ানো ও বসা অবস্থায় শিরাগুলোর অবস্থা, ত্বকের রঙ, ফোলা, আলসার ইত্যাদি দেখা হয়।
এর পাশাপাশি কিছু বিশেষ পরীক্ষা করা হতে পারে, যার মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো ডুপ্লেক্স ভেনাস আল্ট্রাসাউন্ড। এই পরীক্ষার মাধ্যমে:
এসব তথ্য চিকিৎসা পরিকল্পনা নির্ধারণে খুবই গুরুত্বপূর্ণ।
সব ভেরিকোস ভেইনের ক্ষেত্রে অপারেশন দরকার হয় না। নিচের যেকোনো অবস্থায় অপারেশনের কথা ভাবা হয়:
প্রাথমিক পর্যায়ে অনেক ক্ষেত্রেই লাইফস্টাইল পরিবর্তন ও কনজারভেটিভ চিকিৎসায় উপসর্গ অনেকটা নিয়ন্ত্রণে রাখা যায়। চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী যেগুলো করা হয়:
যখন কনজারভেটিভ চিকিৎসায় উপকার না হয় অথবা জটিলতা দেখা দেয়, তখন অপারেটিভ চিকিৎসা প্রয়োজন হতে পারে। বর্তমানে ভেরিকোস ভেইন অপারেশনের প্রধানত দু’টি ধরন প্রচলিত:
এসব আধুনিক পদ্ধতিতে সাধারণত খুব ছোট ছিদ্র দিয়ে ক্যাথেটার ঢুকিয়ে শিরাকে ভিতর থেকে বন্ধ করা হয়। ফলে কাটা–ছেঁড়া কম, ব্যথা কম এবং রোগী খুব দ্রুত স্বাভাবিক জীবনে ফিরে যেতে পারেন।
বেশিরভাগ ভেরিকোস ভেইন দীর্ঘদিন থাকলেও ক্যান্সার বা প্রাণঘাতী রোগে পরিণত হয় না, তবে উপসর্গ বাড়লে বা ত্বক/শিরায় জটিলতা দেখা দিলে দেরি না করে ভাসকুলার সার্জনের পরামর্শ নেওয়া খুবই জরুরি। সময়মতো সঠিক পরীক্ষা ও চিকিৎসা নিলে ব্যথা–অস্বস্তি কমে গিয়ে জীবনযাত্রার মান অনেক ভালো রাখা সম্ভব।
আপনার যদি ভেরিকোস ভেইন বা আঁকাবাঁকা শিরার সমস্যা থাকে, নিজে নিজে সিদ্ধান্ত না নিয়ে বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের পরামর্শ নিন – প্রয়োজনে ডুপ্লেক্স স্ক্যান এবং অন্যান্য পরীক্ষার মাধ্যমে আপনাকে জন্য উপযুক্ত চিকিৎসা নির্ধারণ করা হবে।
ভেরিকোস ভেইন হলো রক্তনালীর ভাল্ব নষ্ট হয়ে রক্ত নিচে জমে থাকা এবং নালীর অস্বাভাবিকভাবে ফুলে যাওয়ার একটি অবস্থা। এটি পায়ের রক্তনালীতে বেশি দেখা যায় এবং ধীরে ধীরে ব্যথা, ফোলাভাব, রঙ্গিন দাগ, ক্র্যাম্প এবং ক্ষতের মতো জটিলতা সৃষ্টি করতে পারে। দীর্ঘসময় দাঁড়িয়ে থাকা, স্থূলতা, গর্ভধারণ, বয়স বা বংশগত কারণেও এ সমস্যা হতে পারে। সময়মতো সঠিক চিকিৎসা না নিলে DVT, Chronic Venous Insufficiency বা Varicose Ulcer হতে পারে।
Copyright @ Designed & Developed By SaraSoftware